সারাদেশ

কুমিরের আক্রমণে শিশুর মৃত্যু: দাফন সম্পন্ন, নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির প্রতিশ্রুতি

  শেখ মারুফ হোসেন, ​বাগেরহাট থেকেঃ 2 June 2026 , 12:27:48 প্রিন্ট সংস্করণ

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে ফাতেমা নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ০১ জুন ২০২৬ (সোমবার) আনুমানিক রাত ০৮ টায় ঘটা এই ঘটনার পরপরই শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। প্রায় ৯ ঘণ্টা পর ভোর ০৪ টায় শিশুটির মরদেহ ভেসে ওঠে দিঘিতে। শিশুটির ভেসে ওঠা মরদেহ উদ্ধার শেষে ০২ জুন (মঙ্গলবার) মাজার প্রাঙ্গণে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে মাজার লংলগ্ন এলাকায় থাকা গণকরবস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ফাতেমার অকাল মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে, মাজারের দিঘির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও দিঘিতে কুমিরের আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটলেও তা নিয়ন্ত্রণে কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ফাতেমা তার বাক প্রতিবন্ধী মায়ের সঙ্গে মাজারে অবস্থান করছিলেন। দিঘির পশ্চিম পাড়ের ঘাটে গোসলের জন্য গিয়েছিল সে। এ সময় দিঘিতে থাকা একটি কুমির অতর্কিতে শিশুটিকে আক্রমণ করে পানির গভীরে টেনে নিয়ে যায়। উপস্থিত নারীদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। ​বিষয়টি জানার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘ প্রায় ৯ ঘণ্টা প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার ভোরে দিঘির পূর্ব পাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন মাজারের খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর ময়না তদন্ত ছাড়াই জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ধার কাজের সার্বিক তদারকি করেন।

​ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ সমবেদনা প্রকাশ করে জানান, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং দর্শনার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিঘিতে দ্রুত স্থায়ী ফেন্স বা নিরাপত্তা বেষ্টনীর ব্যবস্থা করা হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের পরে ধর্মীয় নিয়মকানুন মেনে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। আর ভবিষ্যতে যাতে এ ধরণের কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্য আপাতত কুমিরটিকে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে। খাঁচা বা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে আবার কুমির আনা হবে। মাজারে স্থায়ীভাবে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, খানজাহান আলী (রহ.) এই দিঘি খনন করে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। পরে তাদের মধ্যে পুরুষটির নাম রাখেন কালা পাহাড় ও স্ত্রী কুমিরটির নাম ধলা পাহাড়। এরপর তাদের বংশধর কুমিরদের মধ্যে পুরুষকে ‘কালা পাহাড়’ আর স্ত্রী কুমিরকে ‘ধলা পাহাড়’ ডাকা হতো। তাদের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।

এর আগে ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ থেকে ৬টি কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। কিন্তু এরপর কয়েকটি মারা যায়। সর্বশেষ যে দুটো ছিল, তার মধ্যে একটা ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যায়। এর পর থেকে একটি কুমিরই দিঘিতে আছে।

আরও খবর

Sponsered content