সারাদেশ

বাগেরহাটে পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন ও মনোসামাজিক সেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

  শেখ মারুফ হোসেন, বাগেরহাট থেকে: 25 June 2026 , 1:40:02 প্রিন্ট সংস্করণ

জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা (GBV) প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মনোসামাজিক সেবা প্রদানের ওপর একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৫ জুন, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বাগেরহাটের ধানশিঁড়ি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট-এর কনফারেন্স হলে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

​বাগেরহাট জেলা পুলিশের আয়োজনে এবং ইউএনএফপিএ (UNFPA) বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মহিদুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আবু রাসেল। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ-এর ফিল্ড অফিসার (বাগেরহাট) ডা. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী।

উদ্বোধনী ​অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মহিদুর রহমান বলেন, “আমাদের পুলিশ সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে কাজ করেন। জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিরা যখন থানায় আসেন, তখন তাদের সাথে সংবেদনশীল আচরণ করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আজকের এই প্রশিক্ষণটি পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা বাড়িয়ে তাদের আরও বেশি সেবা-বান্ধব করে গড়ে তুলবে বলে আমি আশাবাদী।”

​অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আবু রাসেল বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত অপরাধ দমনে কাজ করছি, কিন্তু ভুক্তভোগীদের সাথে সঠিক যোগাযোগ ও তাদের মানসিক অবস্থা বোঝার দক্ষতা আমাদের সেবাকে আরও কার্যকর করে তোলে। কর্মশালায় সারভাইভার-কেন্দ্রিক সহায়তা, যোগাযোগ দক্ষতা (SOLER) এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা (MHPSS) বিষয়ক কৌশলগুলো আমাদের পুলিশ সদস্যদের কর্মক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক হতে সাহায্য করবে।”

দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে ​সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, “পুলিশ কেবল আইনের রক্ষক নয়, তারা জনগণের সেবকও বটে। জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় আমাদের পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সদস্যরা যা শিখলেন, তা তাদের কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে বাগেরহাটবাসীকে আরও উন্নত ও মানবিক সেবা প্রদান করবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।”

​প্রশিক্ষণ সেশনে ডা. নূর-ই-আলম সিদ্দিকী জানান, জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং তাদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, সারভাইভারের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সেবা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদী পেশাগত চাপে থাকা পুলিশ সদস্যদের নিজেদের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য ‘সেলফ-কেয়ার’ বা আত্মযত্নের কলাকৌশল নিয়েও প্রশিক্ষণে আলোচনা করা হয়।

​কর্মশালায় জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা যেমন—জরুরি চিকিৎসা, আইনি পরামর্শ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনে যথাযথ প্রতিষ্ঠানে রেফারেল (স্থানান্তর) প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের বিশদ ধারণা প্রদান করা হয়।

আরও খবর

Sponsered content