বিশেষ প্রতিনিধি 29 July 2026 , 12:37:51 প্রিন্ট সংস্করণ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও শিক্ষার্থীকল্যাণে নিবেদিত একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর কাছে ব্যাপক আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন। পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, লেখাপড়ার মান, খেলাধুলা, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সমস্যার প্রতিও তিনি সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, তাঁর উদ্যোগ ও নিরলস পরিশ্রমে বিদ্যালয়ের খেলাধুলার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। তাঁর তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন এবং জেলা পর্যায়ে একাধিকবার রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় কোনো শিক্ষার্থী একদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে পরদিনই আব্দুল আলিম সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য উৎসাহিত করেন এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।
কোনো শিক্ষার্থীর ফলাফলে অবনতি হলে বা পড়াশোনায় আগ্রহ কমে গেলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নেন। এছাড়া বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে কোনো ছাত্রী ইভটিজিং বা হয়রানির শিকার হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন। কোনো শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়লে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সহযোগিতা ও সমাধানের চেষ্টা করেন।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেশমি আক্তার বলেন আলিম স্যার শুধু আমাদের শিক্ষক নন, তিনি একজন অভিভাবকের মতো। একদিন স্কুলে না গেলে পরদিনই ফোন করে জানতে চান কেন আসিনি। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে কেউ বিরক্ত করছে কি না, তাও খোঁজ নেন। কোনো সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেন। এতে আমরা নিজেদের নিরাপদ মনে করি।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পলাশ রপ্তান বলেন, “স্যার সব সময় আমাদের পড়াশোনার খোঁজ রাখেন। ফলাফল খারাপ হলে কীভাবে ভালো করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ দেন। খেলাধুলা ও শরীরচর্চায়ও তিনি আমাদের উৎসাহ দেন এবং নিজের সন্তানের মতো করে শেখান।
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাথী মুন্ডা বলেন“স্যার আমাদের অভিভাবকের মতো। স্কুলে একদিন অনুপস্থিত না থাকলে তিনি ফোন করে খোঁজ নেন। আমাদের পড়াশোনা স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি সব সময় চিন্তা করেন। স্যারের কারণে খেলাধুলায়ও আমরা অনেক সফলতা অর্জন করেছি এতে আমরা বুঝতে পারি, তিনি আমাদের কতটা ভালোবাসেন।
অভিভাবক আঃ রশিদ বলেন আমার মেয়ে একদিন বিদ্যালয়ে না গেলে স্যার নিজেই ফোন করে খোঁজ নেন। আসা যাওয়ার পথে কোন সমস্যা হলে আমার চিন্তা করা লাগে না স্যার সমস্যা গুলো দেখেন। এমন দায়িত্বশীল শিক্ষক এখন খুব কমই দেখা যায়।
আরেক অভিভাবক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “তিনি শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নন; শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়েও অত্যন্ত আন্তরিক। এজন্য অভিভাবকদের কাছে তিনি আস্থার প্রতীক।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি মন্ডল বলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম অত্যন্ত নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী ও কর্মঠ একজন শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা, খেলাধুলা এবং সার্বিক কল্যাণে তাঁর অবদান অসাধারণ। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপজেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন এবং জেলা পর্যায়ে একাধিকবার রানার্সআপ হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীরা একদিন স্কুলে না আসলে পরের দিনে মোবাইলে অভিভাবক এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করে জানতে চান কেন বিদ্যালয়ে আসতে পারেনি কোন সমস্যা হয়েছে কিনা তাদের। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো মনে করে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে তারা কোনো সমস্যায় পড়ছে কি না, সেদিকেও সার্বক্ষণিক নজর রাখেন।তিনি ছাত্র-ছাত্রী এবং বিদ্যালয় কে নিজের মনে করে কাজ করে আসছেন। সে কারণে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক এবং আমি নিজেও তার প্রতি আস্থা রাখি।
সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম বলেন, “শিক্ষকতা আমার কাছে শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি দায়িত্ব ও আমানত। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আমি নিজের সন্তানের মতো মনে করি। কোনো শিক্ষার্থী একদিনও অনুপস্থিত থাকলে তার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করি, কারণ অনেক সময় ছোট একটি সমস্যা বড় ধরনের ঝরে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং তাদের অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা রাখতে পারেন সেই লক্ষ্যেই আমি আন্তরিকভাবে কাজ করার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একইভাবে কাজ করে যেতে
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আব্দুল আলিমের মতো দায়িত্বশীল ও মানবিক শিক্ষক শুধু একটি বিদ্যালয়ের সম্পদ নন, পুরো সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর আন্তরিকতা ও কর্মনিষ্ঠা অন্য শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীকল্যাণে আরও আন্তরিক হতে অনুপ্রাণিত করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

















