আব্দুল কাদের 31 May 2026 , 2:50:59 প্রিন্ট সংস্করণ
আগামী তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বনজ সম্পদ, মৎস্য ও জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বন্য প্রাণীর সুরক্ষার লক্ষ্যে ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এ সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সুন্দরবননির্ভর হাজারো জেলে, মৌয়াল ও বনজীবী।
তাদের দাবি, তিন মাস বন বন্ধ থাকায় আয়-রোজগারের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অনেককে ঋণ করে সংসার চালাতে হয় এবং মহাজনসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ধারদেনায় জড়িয়ে পড়তে হয়। নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন।
এ কারণে খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন কর্মহীন বনজীবীরা।
বন বিভাগ জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট সময়টি সুন্দরবনের মাছ, জলজ প্রাণী ও বিভিন্ন বন্য প্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময় অধিকাংশ মাছ ও জলজ প্রাণী ডিম ছাড়ে। একই সঙ্গে বনের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুর্নজন্ম প্রক্রিয়াও চলতে থাকে।
তাই বন ও বন্য প্রাণীর নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মতো এবারও তিন মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জেলে, মৌয়াল ও পর্যটকদের জন্য নতুন পাস বা অনুমতিপত্র দেওয়া ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। বন বিভাগ ১ জুন থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে সবাইকে বন এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
পশ্চিম বন বিভাগের খুলনার দায়িত্ব থাকা ডিএফও এ জেড হাসান বলেন, ‘আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এরপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পুনরায় সুন্দরবনে প্রবেশ পর্যটন কার্যক্রম এবং বনজ সম্পদ আহরণের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।’

















