শেখ মারুফ হোসেন, বিশেষ প্রতিবেদকঃ 11 July 2026 , 7:59:13 প্রিন্ট সংস্করণ
লেখক: শেখ হাসিবুর রহমান, ৬ষ্ঠ শ্রেণী, শাখা- ক, রোল -০৩, মোবাইদুল ইসলাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কচুয়া, বাগেরহাট।
শীতলপুর গ্রামের ছোট কিশোর হাসান। একদিন সে দেখল, তাদের স্কুল প্রাঙ্গণসহ চারপাশের অনেক জায়গায় প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট আর পলিথিনের স্তূপ জমে নোংরা হয়ে আছে। এগুলো পরিবেশের ক্ষতি করছে দেখে হাসানের খুব কষ্ট হলো। সে তার বন্ধুদের ডেকে বলল, “এই প্লাস্টিক সহজে পচে না, আমাদের গ্রামটাকে নষ্ট করে দিচ্ছে।” হাসানের কথা শুনে তার ২৬ জন বন্ধু একপায়ে রাজি হয়ে গেল। সবাই কোমর বেঁধে নেমে মাত্র দুদিনে সব প্লাস্টিক কুড়িয়ে পুরো এলাকা সাফ করে ফেলল।
কিন্তু গ্রামে কোনো ডাস্টবিন না থাকায় মানুষ ও দোকানদারেরা আবার এখানে-সেখানে প্লাস্টিক ফেলা শুরু করল। এই সংকটে এগিয়ে এলেন গ্রামের রিকশাচালক রহমত চাচা। তিনি বললেন, “তোরা দমে যাস না, তোদের এই ভালো কাজে আমি সাহায্য করব।”
রহমত চাচার কথা শুনে হাসান ও তার বন্ধুরা দারুণ এক সিদ্ধান্ত নিল। তারা সবাই মিলে চমৎকার সব পোস্টার বানাল—”প্লাস্টিক বর্জন করুন, গ্রাম পরিষ্কার রাখুন”। এরপর তারা গ্রামের দেয়ালে দেয়ালে পোস্টারগুলো লাগিয়ে দিল।
কিশোরদের এই সচেতনতা দেখে গ্রামের বড়রা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে লজ্জিত হলেন এবং সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন। বড়রা সবাই মিলে চাঁদা তুলে মোড়ে মোড়ে ডাস্টবিন কিনে দিলেন। আর রহমত চাচা তার রিকশার পেছনে একটা বড় বস্তা বেঁধে প্রতিদিন সব দোকান ও বাড়ি থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করতে লাগলেন। সেই প্লাস্টিকগুলো ভাঙারি দোকানে বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া গেল, তা দিয়ে শীতলপুর গ্রামের জন্য গাছ কেনা হলো।
হাসানের নেতৃত্ব, বন্ধুদের উৎসাহ, বড়দের সাহায্য আর রহমত চাচার পরিশ্রমে পুরো শীতলপুর গ্রাম এখন প্লাস্টিক মুক্ত ও সবুজ হয়ে উঠল।
এভাবেই একদল কিশোরের হাত ধরে দেশ প্লাস্টিক মুক্ত হওয়ার দিকে এগিয়ে গেল।

















