সারাদেশ

শ্যামনগরে শিক্ষা অফিসে সংঘর্ষ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে আহত ৯

  বিশেষ প্রতিনিধি 30 June 2026 , 3:23:01 প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ গঠনকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভেতরেই হয় দুই পক্ষের সংঘর্ষ। সোমবার বেলা ১২টার দিকের এ ঘটনায় আহত হন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনসহ অন্তত নয়জন।

আহতদের মধ্যে নিতাই চন্দ্র মণ্ডল (৪৩), মনোজিৎ কুমার মণ্ডল (২১), আবুল কালাম (৩৬), হেমায়েত (২৭) ও মোহাম্মদ আলীকে (৩০) ভর্তি করা হয়েছে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। উপজেলার নুরনগর ইউনিয়নের হরিনাগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার ১০৪ নম্বর লক্ষ্মীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল বিরোধ। নিজের ছেলে রাজুকে সভাপতি করতে আগ্রহী ছিলেন জালাল উদ্দীন। অন্যদিকে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছিল সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি প্রকাশ মণ্ডলের পরিবার।

বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে সোমবার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে শিক্ষা অফিসে হয় উভয় পক্ষের বৈঠক। এ সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অফিসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা এবং আহত হন কয়েকজন।

নিতাই চন্দ্র মণ্ডলের দাবি, বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে তাদের পরিবার। এদিকে প্রভাব খাটিয়ে তার ছেলেকে সভাপতি করতে চাইছেন জালাল উদ্দীন।

তিনি আরও বলেন, ‘শুনানির সময় জালাল, জাহিদসহ বাইরে থেকে আসা লোকজন আমাদের ওপর দুই দফা হামলা চালায়।’ এ ঘটনায় জালাল উদ্দীন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার জালাল উদ্দীন বলেন, নিতাই মণ্ডল ও তার পরিবারের সদস্যরাই আগে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। ‘নিতাইয়ের পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন। তাই বিদ্যালয়ের স্বার্থে আমি ছেলে রাজুকে সভাপতি করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। আলোচনার মধ্যেই তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করেছে।’ এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনিও।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি অফিসে ছিলাম না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সরকারি অফিসের ভেতরে এমন ঘটনা কেন ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।’

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. পিয়ার উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। তবে রাত ৮টা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।

আরও খবর

Sponsered content