শেখ মারুফ হোসেন, বিশেষ প্রতিবেদকঃ 22 May 2026 , 9:21:06 প্রিন্ট সংস্করণ
অদ্য ২১ মে ২০২৬ খ্রি. রোজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপার কার্যালয় বাগেরহাট এর কনফারেন্স কক্ষে জেলা পুলিশ বাগেরহাট এর আয়োজনে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এর কারিগরি সহযোগিতায় এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘PREVAIL’ প্রকল্পের আওতায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্কের মাধ্যমে জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় এই “Multi-stakeholders Coordination Meeting with GOs & NGOs to Prevent GBV” বিষয়ক সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান প্রধান সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (NGO) প্রতিনিধি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়ে নারী ও মেয়ে শিশুদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডাঃ নুর-ই-আলম সিদ্দিকী, ফিল্ড অফিসার বাগেরহাট, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ।
সমন্বয় সভায় জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, করণীয় এবং মাঠপর্যায়ের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাটের এডিশনাল এসপি (ক্রাইম এন্ড অপস) মোঃ আবু রাসেল, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনোয়ারা খানম। এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন প্রেসক্লাব বাগেরহাটের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা শেখ আসাদুর রহমান, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মোস্তফা গিয়াস উদ্দিন এবং জেলা শিক্ষা অফিসের ডিস্ট্রিক্ট ট্রেনিং কোঅর্ডিনেটর এস এম হাবিবুর রহমান।
বেসরকারি ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিদের মধ্যে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের প্যানেল লইয়ার মোঃ এস. এম. মনিরুজ্জামান, ব্রাকের জেলা সমন্বয়কারী মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম, সুপ্তি মহিলা উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ঝিমি মন্ডল, বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এ এস এম মনজুরুল হাসান এবং বাদাবণ সংঘের ডিসট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর সুরাইয়া আক্তার। পাশাপাশি সভায় বিশেষ গুরুত্বের সাথে বক্তব্য রাখেন বাগেরহাটের নয়টি উপজেলার অফিসার ইনচার্জগণ (OC) এবং থানাগুলোতে কর্মরত ‘নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী হেল্প ডেস্ক’-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ। তারা তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তা প্রদান, ডেস্কে আসা ভুক্তভোগীদের মানসিক স্বস্তি দেওয়া এবং সারভাইভারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশের পক্ষ থেকে শতভাগ আন্তরিকতার সাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সমাজ থেকে সহিংসতা দূর করতে কেবল একক কোনো সংস্থার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। সরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাজের মধ্যে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও সমন্বয় থাকা জরুরি। বিশেষ করে সহিংসতার শিকার সারভাইভারদের আইনি, চিকিৎসা ও মানসিক কাউন্সেলিং সেবা যেন কোনো রকম আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়া দ্রুত নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। একই সাথে তৃণমূল পর্যায়ে জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতার সঠিক চিত্র তুলে ধরতে এবং ঘটনার ফলোআপ নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদানের ওপর জোর দেওয়া হয়।
উন্মুক্ত আলোচনায় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় করতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পাশাপাশি ক্ষতিকর সামাজিক রীতিনীতি ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে পুরুষ ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়। সভায় উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ আশ্বস্ত করেন যে, বেসরকারি সংস্থাগুলোর মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি আইনি ও সামাজিক সুরক্ষামূলক সেবাগুলোকে আরও জনবান্ধব ও সারভাইভার-সংবেদনশীল করতে প্রশাসন সদা প্রস্তুত। PREVAIL প্রকল্পের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে মাঠপর্যায়ে সহিংসতা প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা সহজ হবে—এই আশাবাদের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।
















