বিশেষ প্রতিনিধি 25 July 2026 , 3:31:07 প্রিন্ট সংস্করণ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ভূরুলিয়া ইউনিয়নের ১২৫ নম্বর মাজাট অন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ওড়না খুলে নেওয়া এবং মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী (ছদ্মনাম: তামান্না) জানায়, গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে সহকারী শিক্ষক মোস্তফা কামাল তার গায়ে থাকা ওড়না খুলে নেন এবং মাথায় আঘাত করেন, মারধোর করে । ঘটনার পর থেকে সে মানসিকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বলে পরিবারের পক্ষে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে( বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই) বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকলেও প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। পরে জানা যায়, তিনি সরকারি কাজে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অবস্থান করছিলেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি জানান, “ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ঘটলেও আমি বিষয়টি জানতে পারি শুক্রবার। পরে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও অভিযুক্ত শিক্ষক মোস্তফা কামালকে নিয়ে বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা সদস্য ফজলুর রহমানের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।”
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও ভূমিদাতা সদস্য ফজলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বৃহস্পতিবার ছুটির আগমুহূর্তে শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।”
এদিকে বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাদের বক্তব্য প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি,” এরপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এক শিক্ষার্থীর মা অভিযোগ করে বলেন, “ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ শুনেছি। ঘটনার পর তিনি আমাদের বাড়িতে এসে ভুল স্বীকার করে বিষয়টি আর না বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, এটি নিয়ে বেশি জানাজানি হলে তার অনেক ক্ষতি হবে এবং মেয়ে সন্তানকে নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করা ঠিক হবে না।”
এ ঘটনায় অভিভাবকরা অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনাটি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















