বিশেষ প্রতিনিধি: 16 May 2026 , 4:17:41 প্রিন্ট সংস্করণ
সুন্দরবন উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর খেয়াঘাট এলাকায় আবারও মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সমাজসেবক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব ড. মোঃ মনিরুজ্জামান।
শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যার দিকে নীলডুমুর খেয়াঘাট এলাকায় পৌঁছালে তিনি দেখতে পান গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আসা এক প্রসূতি মা তীব্র প্রসব বেদনায় খেয়াঘাটে অসহায় অবস্থায় কাতরাচ্ছেন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য যানবাহনের সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েন।
এ সময় পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে ড. মোঃ মনিরুজ্জামান কোনো প্রকার দেরি না করে নিজের ব্যবহৃত গাড়িতে ওই প্রসূতি মাকে দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জিয়াউর রহমানকে মুঠোফোনে জানিয়ে দেন।
৯:৩০ মিনিটে শ্যামনগর হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত ডেলিভারি ওয়ার্ডের নিয়ে বাচ্চা ডেলিভারি করান, কন্যা সন্তানের জন্ম হয়।
হাসপাতালে কর্তব্য রাতে চিকিৎসার জানান, বাচ্চা ও মা ভালো রয়েছেন , সময়মতো না পৌঁছালে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারতো, বাচ্চা হাফিয়ে গিয়েছিল।
তার এই মানবিক সহায়তায় স্বস্তি ফিরে আসে প্রসূতি মায়ের স্বজনদের মাঝে। স্থানীয়রা জানান, উপকূলীয় দুর্গম অঞ্চলে জরুরি সময়ে যানবাহনের সংকট প্রায়ই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে ড. মনিরুজ্জামানের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও মানবিক আচরণ সত্যিই প্রশংসনীয়।
প্রসূতি মায়ের পরিবারের সদস্যরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ঠিক সময়ে সহযোগিতা না পেলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারতো। ড. মনিরুজ্জামান মানবিকতার পরিচয় দিয়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।”
এ বিষয়ে ড. মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “মানুষ মানুষের জন্য। একজন অসহায় মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী আমি সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এভাবে মানবিক কাজে এগিয়ে এলে উপকূলের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হয়।










