আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় উপজেলার ভেটখালী বাজারে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। রমজাননগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার গাজী নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াত নেতা অধ্যাপক আব্দুল জলিল, জেলা জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল মজিদ, জেলা অফিস সেক্রেটারী মাওলানা রুহুল আমিন, উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি সাঈদী হাসান বুলবুল। এছাড়াও উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের মানুষ আজ দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের রাজনীতিতে অতিষ্ঠ। সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে সমাজ থেকে এসব অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন হবে জনতার অধিকার প্রতিষ্ঠার নির্বাচন—যেখানে জনগণ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে বিজয়ী করে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে।
তিনি তার সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, ভেটখালী-কৈখালী যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে মাদার নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ ছিল এ অঞ্চলের জন্য একটি বড় অগ্রগতি। তার সময়েই রাস্তাঘাট উন্নয়ন, বিভিন্ন জনসেবামূলক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সরকারি বরাদ্দ সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গাজী নজরুল ইসলাম আরও বলেন, “আগামী দিনে যদি জনগণ আমাকে পুনরায় সংসদে যাওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে ভেটখালীসহ পুরো শ্যামনগর অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে জেলে, কৃষক, মজুর, শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।”
তিনি উপস্থিত জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী নির্বাচনে দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে গণরায় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে সৎ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। বক্তারা সবাইকে সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
জনসভা শেষে নেতৃবৃন্দ জানান, আগামী দিনগুলোতে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে গণসংযোগ ও প্রচারণা আরও জোরদার করা হবে।