বিশেষ প্রতিনিধি 22 August 2026 , 3:18:17 প্রিন্ট সংস্করণ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নে মোঃ মিয়ারাজ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কুয়েতে নিয়ে মারধর ও অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদী ১। জুলেখা বিবি (৬২), স্বামী-মৃত গোলাম মোড়ল, ২। সুভা পারভীন (৩০), স্বামী-খোকন, ৩। বাবু (৩৫), পিতা-মৃত গোলাম মোড়ল, সর্ব সাং-জয়াখালী, থানা-শ্যামনগর, জেলা-সাতক্ষীরাদের মধ্যে ১নং বিবাদী আমার শাশুড়ী, ২নং বিবাদী আমার বড় শ্যালকের স্ত্রী এবং ৩নং বিবাদী ছোট শ্যালক। আমার বড় শ্যালক খোকন (৪৫) সে দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে থাকে। আমার বড় শ্যালক খোকন সহ বিবাদীগণ দালাল, মানব পাচারকারী, অর্থ আত্মসাৎকারী ও প্রতারক চক্রের সক্রিয় সহযোগি বলে এলাকায় বেশ জনশ্রুতি পাওয়া যায়। আমার বড় শ্যালক খোকন আমার বড় ছেলে মোঃ মিয়ারাজ হোসেন (২৮) কে ভালো বেতনে কুয়েতে কাজ দিবে বলে ১-৩ নং বিবাদীদের মাধ্যমে প্রস্তাব করে। আমি সেই অনুযায়ী বিবাদীদের প্রস্তাবে রাজী হয়ে যাই। আমার বড় শ্যালক খোকন আমার ছেলেকে ফ্রি ভিসায় বিদেশে নিয়ে যাবে বলে তার বাড়ির লোকজন ১-৩ নং বিবাদীদের মাধ্যমে আমার নিকট থেকে ৭,০০,০০০/- (সাত লক্ষ) টাকা গ্রহন করে। আমার শ্যালক খোকন বিগত ০১ বছর ০২ মাস পূর্বে আমার ছেলে মোঃ মিয়ারাজ হোসেন কে কুয়েতে নিয়ে যাওয়ার পরে তাকে মালিকানা ভিসা দিছে জানিয়ে যে মালিকের আওতায় কাজে ঢুকায়ে দেয় সেখানে দিনের পর দিন কারণে আমার ছেলে সাথে খুবই খারাপ আচারণ করা, মারধর করা সহ অমানবিক নির্যাতন করে আসছে। তাছাড়া তাকে দিয়ে প্রচুর কাজ কাম করালে কফিল কোন পারিশ্রমিক/বেতন দেয় না। আমার ছেলেকে মারধরের কারণ হিসাবে তার কাছে জানতে পারলাম যে, বড় শ্যালক খোকন আমার ছেলেকে যে বাসায় কাজে দিছে ইতিপূর্বে সেই বাসায় মালিকের নিকটে আরো একটি ছেলেকে ঢুকায় এবং তাকেও মারধর করায় সে জীবনের ভয়ে পলায়ন করলে উক্ত মালিক খোকনকে ৩,০০,০০০/-টাকা জরিমানা করে। পরবর্তীতে শ্যালক খোকন উক্ত দ্বায় এড়ানোর জন্য আমাদের কে না জানিয়ে আমার ছেলেকে তার বাড়িতে কাজে পাঠায় এবং শ্যালক তার উক্ত টাকা পয়সা পরিশোধ না করানোর কারণে ছেলের কফিল তার প্রতি দিনের পর দিন নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এমতাবস্থায় অদ্য ইং-২০/০৮/২০২৬ তারিখে পুনরায় উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে আমার ছেলের কফিল আমার ছেলের নিকটে তার মামার কাছে টাকা পয়সা পাবে মর্মে দাবী করে আমার ছেলে মোঃ মিয়ারাজ হোসেন কে বেঁধে ঘরের মধ্যে আটকে লোহার রড দিয়ে বেপরোয়া পিটায়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। কফিলের মারপিটের ফলে সে অচেতন পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য সেখানে একটি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। বিষয়টি নিয়ে খোকন কে ফোন দিলে সে ফোন কল রিসিভ করে না। তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে তার পরিবারের লোকজন ১-৩নং বিবাদীদেরকে জানালেও তারাও আমাদের কথায় কোন প্রকার কর্ণপাত না করে বরং আমাদের কিছু করার থাকলে করে নিস মর্মে বিভিন্ন হুমকি ধামকি প্রদান করে তাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া খোকন কে মাঝে মধ্যে ফোন দিলে সে আমার ছেলেকে না ছাড়িয়ে বরং বিভিন্ন হুমকি ধামকি অব্যাহত রেখে চলেছে। বর্তমানে আমার ছেলে কুয়েতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। বিবাদীদের কারণে আমার ছেলে জীবন নাশের আশঙ্কায় আছে। মোঃ মিয়ারাজ হোসেনর পিতা মোঃ নেছার সরদার বলেন, দালালদের গোপন আস্তানায় জিম্মি করে আমার ছেলেকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কুয়েতে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন এবং মৃত্যুর ভয় দেখানো হচ্ছে এবং তার কাজ থেকে জোরপূর্ব চেক ও স্ট্যাম্প নিয়েছে। বর্তমানে আমার ছেলে কুয়েতে একটি হাসপাতালে ভর্তি আছে। তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে আরো অনেকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই দালালেরা।একাধিক মামলা হলেও তারা টাকার জোরে পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যাতে দালালদের দ্রুত গ্রেফতার করে আমার ছেলে মোঃ মিয়ারাজ হোসেন কে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যায়।

















