আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সাতক্ষীরা-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী জনসভা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শ্যামনগরে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমান। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল ইমাম আযম মনির, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি সাইদি হাসান বুলবুলসহ জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান দেশের প্রেক্ষাপটে জনগণ অত্যন্ত সচেতন। জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা চেয়েছিল মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিমূলক ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন। সেই আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
তিনি জানান, এ উপলক্ষে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার শ্যামনগরের নকিপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতল্লা সিবগা, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও ডাকসুর নির্বাচিত ভিপি সাদিক কাইয়ুম, জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, জনসভাকে সাফল্যমণ্ডিত করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি সুশৃঙ্খল ও গোছালো জনসভা বাস্তবায়িত হবে ইনশাআল্লাহ। জনসভার সংবাদ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল শ্যামনগরের জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। উপকূলে বসবাসরত মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে পরিকল্পিতভাবে সার্বিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নিয়ে বিশেষ গবেষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা যায়।
স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে চার লক্ষাধিক জনসাধারণের জন্য শ্যামনগরে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নেই। বিগত সময়ে তিনি উন্নয়ন কাজ করেছেন উল্লেখ করে বলেন, আগামীতে নির্বাচিত হলে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। একইসঙ্গে যুগান্তকারী উন্নয়ন, সংস্কার এবং নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। এছাড়াও উপকূলীয় গাবুরা ও পদ্মপুকুরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকারসমূহ যথাযথভাবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নাভারণ থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনের পর্যটন শিল্প বিকাশের পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পরিবহন করা সহজ হবে এবং মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থাও উন্নত হবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত অঙ্গীকার করে বলেন, সরকার প্রদত্ত ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি কিংবা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না ইনশাআল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে জনসভাকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করে সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।